॥ শ্রী আদিত্যহৃদয়স্তোত্রম্ ॥
বাল্মীকি রামায়ণের যুদ্ধকাণ্ডে লঙ্কাসমরে মহর্ষি অগস্ত্য কর্তৃক প্রভু শ্রী রামচন্দ্রকে প্রদত্ত পরম বিজয়দায়ক সূর্য উপাসনা।
প্রধান শ্লোক ও শ্লোকভিত্তিক বঙ্গানুবাদ
শ্লোক ১-২: মহর্ষি অগস্ত্যের আগমন
ততো যুদ্ধপরিশ্রান্তং সমরে চিন্তয়া স্থিতম্।
রাবণং চগ্রতো দৃষ্ট্বা যুদ্ধায় সমুপস্থিতম্॥
দৈবতৈশ্চ সমাগম্য দ্রষ্টুমভ্যাগতোরণম্।
উপাগম্যাব্রবীদ্রামমগস্ত্যো ভগবান্ ঋষিঃ॥
বঙ্গানুবাদ: রণক্ষেত্রে দশানন রাবণকে সম্মুখে যুদ্ধে উদ্যত দেখে এবং ভগবান শ্রী রামচন্দ্রকে ক্লান্ত ও গভীর চিন্তায় মগ্ন দেখে, দেবগণের সাথে যুদ্ধ দর্শন করতে আসা পরম তেজস্বী মহর্ষি অগস্ত্য শ্রীরামের নিকটে এসে বললেন।
শ্লোক ৩-৫: স্তোত্রের দিব্য মহিমা
রাম রাম মহাবাহো শৃণু গুহ্যং সনাতনম্।
যেন সর্বানরীন বৎস সমরে বিজয়িষ্যসে॥
আদিত্যহৃদয়ং পুণ্যং সর্বশত্রুবিনাশনম্।
জয়াাবহং জপেন্নিত্যমক্ষয়ং পরমং শিবম্॥
সর্বমঙ্গলমাঙ্গল্যং সর্বপাপপ্রণাশনম্।
চিন্তাশোকপ্রশমনমায়ুর্বর্ধনমুত্তমম্॥
বঙ্গানুবাদ: হে মহাবাহু রাম! এই পরম সনাতন ও গোপনীয় রহস্য শ্রবণ করো, যার দ্বারা তুমি রণাঙ্গনে সকল শত্রুর ওপর জয়লাভ করবে। এই ‘আদিত্য হৃদয়’ স্তোত্র অত্যন্ত পবিত্র, সকল শত্রুনাশক, নিত্য বিজয়প্রদায়ক, অক্ষয় ও পরম মঙ্গলময়। এটি নিখিল মঙ্গলের মঙ্গল, সর্বপাপের ক্ষয়কারী এবং মনের দুশ্চিন্তা ও শোক দূর করে পরমায়ু বৃদ্ধি করে।
শ্লোক ৬-৮: সূর্যদেবের সর্বদেবময় রূপ
রশ্মিমন্তং সমূদ্যন্তং দেবাসুরনমস্কৃতম্।
পূজয়স্ব বিবস্বন্তং ভাস্করং ভুবনেশ্বরম্॥
সর্বদেবাত্মকো হ্যেষ তেজস্বী রশ্মিভাবনঃ।
এষ দেবাসুরগণাংল্লোকান্ পাতি গভস্তিভিঃ॥
এষ ব্রহ্মা চ বিষ্ণুশ্চ শিবঃ স্কন্দঃ প্রজাপতিঃ।
মহেন্দ্রো ধনদঃ কালো য়মঃ সোমো হ্যপাং পতিঃ॥
বঙ্গানুবাদ: সহস্র রশ্মিদ্বারা শোভিত, সর্বদাই উদিত, সুর ও অসুর সকলের দ্বারা বন্দিত, নিখিল বিশ্বের অধীশ্বর সূর্যদেবকে তুমি অর্চনা করো। ইনিই সমস্ত দেবতার পরমাত্মা, পরম তেজস্বী এবং নিজ দিব্য কিরণজালে নিখিল বিশ্ব রক্ষা করছেন। ইনিই ব্রহ্মা, বিষ্ণু, শিব, কার্তিক, প্রজাপতি, ইন্দ্র, কুবের, কাল, যম, চন্দ্র ও বরুণ।
নিত্য পাঠের বিধি ও নিয়ম
- সময় ও অর্ঘ্য: প্রাতঃকালে সূর্যোদয়ের সময় পূর্বাস্য হয়ে তাম্রপাত্রে জল, রক্তচন্দন, অক্ষত ও রক্তপুষ্প নিয়ে সূর্যদেবকে অর্ঘ্য নিবেদন করুন।
- জপ: অর্ঘ্য সমর্পণের পর ভক্তিভরে ৩ বার এই পরম স্তোত্র পাঠ করুন।
- রবিবার নিয়ম: রবিবারে আমিষ ও লবণ ত্যাগ করে নিরাহার বা ফলাহার সাধনা করলে দ্রুত ফললাভ হয়।
পাঠের আধ্যাত্মিক ও জাগতিক সুফল
- সর্বক্ষেত্রে বিজয়লাভ: জীবনের যেকোনো কঠিন সংকট, শত্রুভয় ও জটিল পরিস্থিতিতে অমোঘ জয় এনে দেয়।
- আরোগ্য ও দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধি: ভগবান সূর্য আরোগ্যের মূল দেবতা; নিয়মিত পাঠে চোখের জ্যোতি বাড়ে ও হৃদরোগ প্রশমিত হয়।
- আত্মবিশ্বাস ও তেজ: চিত্তের জড়তা দূর হয়ে মনে অপরিসীম সাহস, সূর্যের মতো তেজ ও সামাজিক সম্মান বৃদ্ধি পায়।


