॥ শ্রী সত্যনারায়ণ ব্রত কথা ॥
স্কন্দ পুরাণের রেবাখণ্ডে মহর্ষি সূত কর্তৃক নৈমিষারণ্যের ঋষিগণের সমীপে বর্ণিত অমর ব্রতকথা।
৫টি পবিত্র অধ্যায়ের সংক্ষেপ সার
প্রথম অধ্যায়: দেবর্ষি নারদের প্রার্থনা
মর্ত্যলোকের মানবজাতির দুঃসহ ব্যাধি ও ক্লেশ দেখে ব্যথিত হয়ে দেবর্ষি নারদ বৈকুণ্ঠে শ্রীহরির শরণ নেন। ভগবান শ্রীবিষ্ণু বলেন—কলিযুগে সত্যরূপী নারায়ণের ব্রত ও সিন্নি নিবেদন করলেই সর্বকষ্ট দূর হয়।
দ্বিতীয় অধ্যায়: দরিদ্র শদানন্দ ব্রাহ্মণ ও কাঠুরিয়া
কাশীর পরম ধার্মিক অথচ নির্ধন শদানন্দ ব্রাহ্মণ এই ব্রত পালন করে সমৃদ্ধি লাভ করেন। তাঁর গৃহে গিয়ে এক কাঠুরিয়া ব্রতের মাহাত্ম্য জেনে নিজে কাঠ বিক্রির অর্থে সত্যনারায়ণের পূজা করে অসীম সুখ লাভ করে।
তৃতীয় ও চতুর্থ অধ্যায়: সাধু সওদাগর ও কলাবতী
সাধু নামক এক বণিক সন্তান কামনায় মানত করেও কন্যা কলাবতীর জন্মের পর ব্রত বিস্মৃত হয়। ফলে জামাতাসহ সে কারাগারে নিক্ষিপ্ত হয় এবং সমুদ্রে বাণিজ্যতরী নিমজ্জিত হতে বসে। পরে পত্নী লীলাবতী ও কন্যা কলাবতীর নিষ্ঠাপূর্ণ ব্রতের ফলে তারা মুক্তি ও সম্পত্তি ফিরে পায়।
পঞ্চম অধ্যায়: রাজা তুঙ্গধ্বজের মোহভঙ্গ
দর্পী রাজা তুঙ্গধ্বজ রাখাল বালকদের দেওয়া সত্যনারায়ণের প্রসাদ অবহেলা করায় তাঁর রাজত্ব ও শতপুত্র বিনষ্ট হয়। পরে অনুতপ্ত হয়ে ভক্তিসহকারে প্রসাদ গ্রহণ করলে ভগবান তাঁর সকল সম্পদ ও বংশ রক্ষা করেন।
সিন্নি প্রসাদের উপকরণ
ময়দা বা চালের গুঁড়া, খাঁটি গব্য দুগ্ধ, চিনি বা গুড়, পাকা কলা, ঘি ও কর্পূর সহযোগে ‘সওয়া পাঁচ পোয়া’ মাপে পরম উপাদেয় সিন্নি প্রসাদ প্রস্তুত করা হয়।


