॥ श्री ॥
॥ পুণ্য দীপাবলি মহোৎসব ॥
কার্তিক অমাবস্যার পুণ্যলগ্নে প্রদীপের মালায় আলোকোজ্জ্বল সনাতন ধর্মের সর্বশ্রেষ্ঠ উৎসব।
দীপাবলির পরম আধ্যাত্মিক মর্মবাণী
‘দীপাবলি’ শব্দের অর্থ হলো প্রদীপের মালা বা সারি। অমাবস্যার নিশ্ছিদ্র তমসাভেদ করে মাটির প্রদীপের স্নিগ্ধ শিখা জ্বেলে মানবজাতি অন্ধকার ও অজ্ঞতার বিরুদ্ধে বিজয় ঘোষণা করে। উপনিষদের সেই অমর প্রার্থনা—“তমসো মা জ্যোতির্গময়” (আমাকে অন্ধকার থেকে আলোর পথে নিয়ে যাও)—দীপাবলির উৎসবের মূল সুর।
প্রধান পৌরাণিক ইতিহাস
- শ্রীরামচন্দ্রের অযোধ্যা প্রত্যাবর্তন: লঙ্কাপতি রাবণকে বধ করে ১৪ বছরের বনবাস শেষে ভগবান শ্রী রামচন্দ্র, সীতা ও লক্ষ্মণ অযোধ্যায় ফিরলে আনন্দবিহ্বল অযোধ্যাবাসী ঘৃতপ্রদীপ জ্বেলে নগরীকে আলোকিত করেছিল।
- দেবী লক্ষ্মীর আবির্ভাব: কার্তিক অমাবস্যার পুণ্যতিথিতে সমুদ্রমন্থনের ফলে অমৃতময়ী মহালক্ষ্মী ক্ষীরোদসমুদ্র থেকে আবির্ভূতা হন।
- কালীপূজা ও দীপান্বিতা: বাংলায় এই পুণ্য রাত্রিতে মা শ্যামাকালী ও দেবী অলক্ষ্মী বিদায় করে সুখলক্ষ্মীর আরাধনা করা হয়।
পাঁচদিনের আলোক উৎসবের ধারা
- প্রথম দিন (ধনতেরাস): আয়ুর্বেদ প্রবর্তক ধন্বন্তরি ও কুবেরদেবের আরাধনা।
- দ্বিতীয় দিন (ভূত চতুর্দশী / নরক চতুর্দশী): ১৪ প্রদীপ প্রজ্জ্বলন ও যমরাজের উদ্দেশ্যে দীপদান।
- তৃতীয় দিন (দীপাবলি / শ্যামাপূজা): মূল দীপান্বিতা উৎসব ও মহালক্ষ্মী-কালীর আরাধনা।
- চতুর্থ দিন (গোবর্ধন পূজা / অন্নকূট): শ্রীকৃষ্ণের গোবর্ধন ধারণ ও প্রকৃতির পূজা।
- পঞ্চম দিন (ভ্রাতৃদ্বিতীয়া / ভাইফোঁটা): ভাই-বোনের পবিত্র ভালোবাসার মঙ্গল কামনায় যমযমুনার পুণ্য আচার।
॥ इति श्री शुभम् ॥


