Skip to main content
Ayodhya Ram Mandir — Chalisa Ghar
শ্রী গায়ত্রী মহামন্ত্র — মা গায়ত্রী / সূর্য দেব

শ্রী গায়ত্রী মহামন্ত্র

Dedicated to মা গায়ত্রী / সূর্য দেববাংলা (Bengali)

॥ श्री ॥

॥ শ্রী গায়ত্রী মহামন্ত্র ॥

ॐ ভূর্ভুবঃ স্বঃ
তৎসবিতুর্বরেণ্যং
ভর্গো দেবস্য ধীমহি
ধিয়ো য়ো নঃ প্রচোদয়াৎ॥


প্রতি পদের সরল অর্থ

সংস্কৃত পদ বঙ্গার্থ
ॐ (ওঁ) পরমব্রহ্মের আদিমতম পবিত্র ধ্বনি
ভূঃ ভূলোক, প্রাণস্বরূপ, অস্তিত্বের মূল
ভুবঃ অন্তরীক্ষ লোক, সমস্ত দুঃখ ও ক্লেশ বিনাশকারী
স্বঃ স্বর্গলোক, পরমানন্দ স্বরূপ
তৎ সেই অদ্বিতীয় পরম সত্তা
সবিতুঃ বিশ্বস্রষ্টা ও জ্যোতির্ময় সূর্যদেব (সবিতা)
বরেণ্যং সর্বশ্রেষ্ঠ, বরণীয় ও পূজনীয়
ভর্গঃ পাপ ও অন্ধকার বিনাশকারী দিব্য জ্যোতি
দেবস্য পরম দেবতার
ধীমহি আমরা একাগ্র চিত্তে ধ্যান করি
ধিয়ঃ আমাদের বুদ্ধি, মেধা ও বিবেককে
য়ঃ যিনি পরমেশ্বর
নঃ আমাদের
প্রচোদয়াৎ সৎপথে পরিচালিত ও আলোকিত করুন

সম্পূর্ণ বঙ্গানুবাদ ও সরলার্থ

যিনি প্রাণস্বরূপ, দুঃখহরণকারী, পরমানন্দময়, সমগ্র জগতের সৃষ্টিকর্তা এবং সর্বশ্রেষ্ঠ পাপনাশক দিব্য জ্যোতির্ময় পরমেশ্বর—আমরা সেই পরম দেবের ধ্যান করি। তিনি যেন আমাদের চিত্ত ও বুদ্ধিকে সত্য ও ধর্মের উজ্জ্বল পথে পরিচালিত করেন।


মহামন্ত্রের মাহাত্ম্য ও প্রেক্ষাপট

গায়ত্রী মন্ত্র সনাতন ধর্মের সর্বশ্রেষ্ঠ বৈদিক মন্ত্র। মহর্ষি বিশ্বামিত্রের দ্বারা ঋগ্বেদের ৩য় মণ্ডলের ৬২তম সূক্তে এই পরম শক্তির প্রকাশ ঘটেছিল। হিন্দু দর্শনে গায়ত্রীকে বেদমাতা বলা হয়। শ্রীমদ্ভগবদ্গীতায় স্বয়ং শ্রীকৃষ্ণ ঘোষণা করেছেন—“গায়ত্রী ছন্দসামহম্” অর্থাৎ ছন্দসমূহের মধ্যে আমি স্বয়ং গায়ত্রী।

প্রতিদিন প্রাতঃ, মধ্যাহ্ন ও সায়ংকালের ত্রিসন্ধ্যায় গায়ত্রী জপ আত্মাকে নির্মল করে এবং জীবনের সকল প্রকার তমসা দূর করে।


জপের সঠিক নিয়ম ও বিধি

  1. সময়: প্রাতঃকালে সূর্যোদয়ের পূর্বে (ব্রাহ্মমুহূর্তে) অথবা সূর্যাস্তের গোধূলি লগ্নে জপ করা সর্বোত্তম।
  2. দিক ও আসন: পূর্ব বা উত্তর দিকে মুখ করে কুশাসন বা শুদ্ধ কম্বলে বসে শান্ত মনে জপ করুন।
  3. মালা: রুদ্রাক্ষ বা রক্তচন্দনের মালায় ১০৮ বার জপ করা বিধেয়।
  4. ধ্যান: দুই ভ্রূর মধ্যস্থলে ভ্রূকুটিতে প্রভাতী সূর্যের সুবর্ণ আভাকে স্মরণ করে স্থির চিত্তে জপ করুন।

গায়ত্রী মন্ত্র জপের আধ্যাত্মিক সুফল

  • বুদ্ধি ও মেধার বিকাশ: একাগ্রতা বৃদ্ধি পায়, শিক্ষার্থীদের বিদ্যালাভ ও স্মৃতিশক্তি প্রখর হয়।
  • মানসিক শান্তি ও স্থিরতা: মানসিক উদ্বেগ, অস্থিরতা ও নেতিবাচক চিন্তা দূরীভূত হয়।
  • রোগমুক্তি ও জীবনীশক্তি: শরীরের স্নায়ুমণ্ডলী শান্ত হয় এবং আত্মিক বল ও তেজ বৃদ্ধি পায়।
  • আধ্যাত্মিক মোক্ষলাভ: চিত্তশুদ্ধির মাধ্যমে পরমার্থিক জ্ঞান লাভ ও আত্মকল্যাণ সাধিত হয়।
॥ इति श्री शुभम् ॥